বন্দরনগরীর কামার পাড়ায় মৌসুমি ব্যস্ততা

বন্দরনগরীর কামার পাড়ায় মৌসুমি ব্যস্ততা

 বিশেষ সংবাদদাতা
  ২০১৯-০৮-১০: ০৫:৫৪ পিএম

কোরবানি উপলক্ষে চট্টগ্রামের কামারপাড়ায় বেড়েছে মৌসুমি ব্যস্ততা। মানুষ ভিড় করছে নতুন ছুরি-বঁটি কেনার জন্য। কেউ কেউ আবার পুরনোটা শানিয়ে নেওয়ার জন্যও আসছে।

সরেজমিনে নগরীর জেল গেইট, চকবাজার কামার পট্টি, দুই নম্বর গেইট, হালিশহরের বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দা, বঁটি, চাকু, ছোরা, চাপাতির নতুন নতুন দোকান বসেছে। শেষ মুর্হুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা।

কিছুদিন আগেও কামারপাড়ায় দুই-একজন লোক দেখা যেত না সেখানে এখন কামারদের ফুরসত নেই দম ফেলার। সেই ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা দা-ছুরি তৈরি ও মেরামত করার কাজ করছেন।

দা, বটি, ছুরি ও ধামা তৈরী করতে কয়লার আগুনে লাল হয়ে জ্বলে উঠা লোহা-ষ্টীলের হাতুড়ি দিয়ে দুই দিক থেকে জোরে জোরে পেটাতে হয় কামারদের। এতে অনেক শক্তির প্রয়োজন পড়ে। পাশাপাশি আঙ্গুল দিয়ে আইতনার রশি টেনে কয়লার আগুনে বাতাস দিতে হয়।

কোরবানীকে সামনে রেখে দা, বটি, চাপাতি, ছুরি ও ধামার চাহিদা বেশী। তবে অন্য সময় হাটে-বাজারে ক্রেতা থাকেনা বললেই চলে। তাই এ শিল্প নানা অস্থিরতা ও সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে জানালেন কামাররা।

নগরীর সাগরিকা পশুর হাটের পাশেই গোপাল কর্মকরারের কামারশাল। তিনি জানান, কোরবান আসলে এ পেশার মানুষদের ব্যস্ততা ও কদর বাড়ে। এবার ঈদে বটি, দা, ছোট-বড় ছুরি বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, এসএস এর ধামা তৈরীতে ৩৫০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকা করে মজুরী নেয়া হচ্ছে। আর তৈরী করা সামগ্রী বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায়। গরু কাটার ছোট ছুরি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়।

নগরের একাধিক কামার হতাশ কন্ঠে বলেন, নতুন করে মানুষ ধারালো মালামাল কিনতে চাননা। ঘরে থাকা পুরানো দা, বঁটি, ছুরি ও ধামাগুলো পুনঃরায় শান দিয়ে ধারালো করে নিয়ে যান। আর পুরো বছরজুড়ে আমরা এবং আমাদের এ শিল্প অবহেলিত। পুঁজি কম থাকার পাশাপাশি আয়ও খুবই কম। সীমিত আয় দিয়ে আমাদের সংসার।

পূর্ব-পুরুষদের রেখে যাওয়া কামার শিল্পকে এখনও ধরে রেখেছেন জানিয়ে একাধিক কামার জানান, আগামীতে এ পেশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল