পশুর হাটে দরপতন, হতাশ ব্যাপারী-খামারিরা

পশুর হাটে দরপতন, হতাশ ব্যাপারী-খামারিরা

 বিশেষ সংবাদদাতা
  ২০১৯-০৮-১১: ০৪:৩৪ পিএম

কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এবার ভারত থেকে গরু আসবে না, দেশি পশুতেই কোরবানি সামাল দিতে হবে। তাই গরুর দাম বাড়বে এমন প্রচার শেষ পযর্ন্ত ব্যাপারীদের জন্য বুমেরাং হয়েছে। ভারত কিংবা মিয়ানমার থেকে সেভাবে গরু না আসলেও প্রান্তিক কৃষক ও খামারিরা যে বিপুলসংখ্যক গবাদি পশু সরাসরি চট্টগ্রামের হাটগুলোতে এনে জড়ো করেছেন তা চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি।

অথচ শুরু থেকেই গরুর ব্যাপারীরা তা খেয়াল করেননি। বরং শেষ সময়ে গরু সংকট হবে এমন ধারণা থেকে শুরু থেকেই তারা ছোট-বড় সব সাইজের গরুরই চড়া দর হাঁকিয়েছেন। এমনকি আগামীকাল ঈদ হলেও আজ  সকালেও তারা সে সুর এতটুকুও নরম করেনি। এতে স্বাভাবিকভাবেই শেষ সময়ে ব্যাপকহারে দর পতন ঘটেছে।

এখন ব্যাপারীরা বড় ধরনের লোকসান গুনে চোখের পানিতে বুক ভাসিয়ে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই শেষ দিনে যারা কোরবানির পশু কিনেছেন তারা জিতেছেন। তবে উপযুক্ত দাম না পেয়ে খামারি ও কৃষকরা কেউ কেউ তাদের গরু বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন বলে খবর এসেছে।

রোববার (১১ আগষ্ট) দুপুরে সাগরিকা গরুর বাজারের ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,গরুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে আর পশু বিক্রি করতে না পেরে তারা হতাশ। শনিবার (১০ আগস্ট) পর্যন্ত পশুর দাম যথেষ্ট ভালো পেলেও রোববার (১১ আগস্ট)  সকাল থেকে পশুর দাম কমে গেছে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই অপেক্ষাকৃত কম দামে পশু বিক্রি করে দিয়েছেন। আবার অনেক ব্যবসায়ী দাম না পাওয়ায় পশু বিক্রি করতে পারেননি।

দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ চট্টগ্রামের সাগরিকা গরুর বাজারের সবচেয়ে বড় গরুটির নাম কালামানিক। শুরুতে ২০ লাখ টাকা দাম হাঁকা হলেও আজ শেষ দিনের এই শেষ মুহুর্তে গরুটির জন্য তিন লাখ টাকাও দিতে রাজি নয় কেউ। শুধু কালামানিক নয়, চট্টগ্রাম নগরের নয়টি পশুর হাটের প্রতিটির অবস্থা এখন এমনি। কাঙ্খিত দাম না পেয়ে হতাশ ব্যাপারীরা।

সাজিদ এ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী সালাহউদ্দিন বলেন,নিজের ফার্মে মোটাতাজা করা ২৫ টি গরু নিয়ে হাটে এসেছিলাম। মাত্র ১০টি বিক্রি করেছি, তাও লস দিয়ে। খামারের সবচেয়ে বড় গরুটা দাম চেয়েছিলাম ২০ লাখ টাকা। শুরুর দিকে ৮-১০ লাখ টাকায় অনেকে কিনতে চাইলেও, এখন ৩ লাখ টাকাও কেউ মুলোচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, যে ১০ টি গরু বিক্রি করেছি, এর প্রতিটিতে ১৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা লস দিয়েছি। বাজারের শেষ দিনে বাজারে ক্রেতাও কম, দামও চাইছে কম।

কুষ্টিয়া থেকে ১৭৫ টি গুরু নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছেন ব্যাপারী আবদুর লতিফ। তিনি জানালেন, গত ১০ দিনে তার ১৫০ টি গরু বিক্রি করেছেন। বাজারের শেষ মুহুর্তে এখনো ২৫ টি গরু রয়েগেছে।

আবদুর লতিফ বলেন, প্রথম দিকে ভালো দাম পেলেও গতকাল থেকে গরুর দাম কমছে। শেষ যে ৫০ টি গরু বিক্রি করেছি তার প্রতিটিতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।জানিনা বাকি ২৫ টা গরু বিক্রি করতে পারবো কিনা।

ব্যাপারীর আবদুর লতিফ বলেন, আসলে শুরু থেকেই গরুর দাম খুব বেশি ছিলো। একইভাবে বাজারে পশুর আমদানি ছিলো অনেক। এসব কারনে ভাগে গরু কোরবানি বেড়ে গেছে। কোরবানি দাতারা দাম বেশি দিতে রাজি নয়। বাজারের এ পরিবর্তনটা ব্যাপারীরা ধরতে পারেনি। তাই এখন লোকসান দিয়ে গরু বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মূলত ভারত থেকে স্বাভাবিক ভাবে গরু না আসায়, চোড়াই পথে আসা গরু চড়া দামে কিনেছেন ব্যাপারীরা। এরপরে ছয় মাস বা এক বছর লালন পালনের খরচতো আছেই। সব মিলিয়ে খরচ আর বাজারের দামের কোনো মিলই নেই।

পাবনা থেকে সাতটি বড় সাইজের গরু নিয়ে বিবিরহাটে আসা শহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার দুটি গরু বিক্রি করেছিলেন পৌনে তিন লাখ টাকায়। বাকি গরুগুলো অন্তত সোয়া লাখ টাকা করে বিক্রি করতে পারবেন এমন আশায় ছিলেন। কিন্তু শনিবার ক্রেতারা কেউই এসব গরুর দাম ৮৫ হাজার টাকার বেশি দিতে চাননি। অথচ মাস তিনেক আগে তিনি গরুগুলো গড়ে ৭০ হাজার টাকা করে কিনেছেন। খাওয়া-দাওয়াসহ আনুষাঙ্গিক খরচ এবং ঢাকায় আনার ট্রাকভাড়া মিলিয়ে তার ৯০ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে।

এদিকে দর পড়ে যাওয়ার পর ব্যাপারীদের অনেকে গরু ফেরত নিয়ে যেতে চাইলেও ইজারাদাররা তা দিচ্ছেননা বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা গরুর দর পড়ে যাওয়ার জন্য চট্টগ্রামে নির্ধারিত অস্থায়ী হাটের পাশাপাশি অলি-গলি ও খোলা মাঠে অবৈধভাবে গরু-ছাগল বেচাকেনাকে দায়ী করেছেন।

সাগরিকা গরুর বাজারের ইজারাদার সাইফুল হুদা মো. জাহাঙ্গীর চট্টগ্রাম২৪ডটকমকে বলেন, গতকাল বিকেল থেকে কোরবানির পশুর  দরপতন হতে থাকে। শেষ দিনেও বাজারে প্রচুর গরু, ক্রেতা কম।  ব্যাপারিরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না। বিক্রেতাদের রীতিমতো মাথায় হাত বলে মন্তব্য করেন তিনি।  


ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন