বনের পশুতে কোরবানি হোক মনের পশুত্ব

বনের পশুতে কোরবানি হোক মনের পশুত্ব

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-০৮-১২: ১১:৫৩ এএম

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং ত্যাগের মহিমায় সোমবার (১২ আগস্ট) বন্দরনগরী চট্টগ্রামে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমান সম্প্রদায়ের অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে মনের পশুত্বকে কোরবানি দেয়ার আহ্বানে ঈদ উৎসবে মেতে উঠেছেন চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।

যথারীতি নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়েই সকালে শুরু হয় ঈদুল আজহার আনুষ্ঠানিকতা। নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে ঈদুল আজহার প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজের পর খুতবায় দেশ এবং দেশের মানুষের কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহতালার কাছে আকুতি জানানো হয়েছে। ত্যাগের মহিমায় আত্মশুদ্ধি এবং মনের কালিমাকে কোরবানি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে খুতবায়।

চট্টগ্রাম নগরীতে এবার সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ১৬৮ টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদ জামাত কমিটির উদ্যোগে নগরীর ৯৩টি স্থানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১২ আগস্ট) সকাল পৌনে ৮টায় নগরীর জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ ময়দানে ঈদুল আযহার প্রথম ও প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ইমামতি করেছেন জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদের পেশ ইমাম মোহাম্মদ আহমুদুল হক।

একইস্থানে সকাল পৌনে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় জামাত। এতে ইমামতি করেছেন জামেয়া আহমদিয়া সুন্নীয়া আলীয়া মাদ্রাসার প্রধান মোফাচ্ছির কাজী মাওলানা মোহাম্মদ ছালেকুর রহমান।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল ৮টায় এম এ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন জিমনেশিয়াম মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ ময়দানে আয়োজিত ঈদের প্রধান জামাতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী-শিল্পপতি সহ নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে।

 

সেখানে নামাজ আদায় করেছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন, চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মীর মো.নাছির উদ্দিন,  চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, নগর বিএনপির সভাপতি ডা.শাহাদাৎ হোসেন, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সোলায়মান আলম শেঠসসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার প্রায় লাখো মুসল্লী।

নামাজ শেষে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মুসল্লীরা পরস্পরের সঙ্গে আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

নামাজ আদায়ের পরপরই নগরীর বিভিন্ন অলিগলি, রাস্তায়, মাঠে, বাসা-বাড়ির সামনে কোরবানি শুরু হয়।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান ছিদ্দিকী বলেন, নগরীতে এক লাখ ৬০ হাজার গরু এবং ৪০ হাজার ছাগল জবাই হতে পারে। জবাইকৃত পশুর বর্জ্য হবে পাঁচ হাজার টন এবং এবং এর সঙ্গে নিয়মিত আড়াই হাজার টন গৃহস্থলি বর্জ্য আছে। আজ সকাল ৯টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রাত ৮টার মধ্যে পুরো শহরের বর্জ্য অপসারণ করা আমাদের লক্ষ্য।

এদিকে বর্জ্য অপসারণে নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। নগরীর কোথাও কোরবানির বর্জ্য কোরবানির দিন রাত ১০টার পরে পড়ে থাকতে দেখলে কন্ট্রোল রুমে কল করে তথ্য জানাতে পারবেন নগরবাসী। কন্ট্রোল রুমের নম্বর হচ্ছে ০৩১- ৬৩০৭৩৯, ০৩১-৬৩৩৬৪৯, ০১৭১২২৫২৬১৫, ০১৬৭৫২১৮৪৮৫। আগামী মঙ্গল ও বুধবারও কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল