রাস্তায় চামড়া ফেলে চোখের পানিতে ঘরে ফিরলেন তারা

রাস্তায় চামড়া ফেলে চোখের পানিতে ঘরে ফিরলেন তারা

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-০৮-১৩: ১১:০৮ পিএম

শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করে বেচতে পারলেন না হাজার কোটি টাকার চামড়া। নগরীর পথে পথে তা ফেলে চোখের জলে ঘরে ফিরলেন অসংখ্য মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী। নগরীতে এমন দৃশ্য ছিল (মঙ্গলবার) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারী ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও প্রতিটি চামড়ার দাম ৫০ টাকার ওপরে তুলতে পারেননি। সেই টাকায় চামড়া বিক্রি করতে হলে তার লোকসান হবে গাড়ি ভাড়া বাদে ৭০/৮০ হাজার টাকা। ফলে বিকেলে তারা একে একে সবাই রাস্তার ধারে চামড়া ফেলে বাড়ী ফিরতে বাধ্য হন।  

রাস্তায় ফেলে দেয়া হাজার হাজার চামড়া গতকাল দিনভর দুর্গন্ধে ভারী ও বিষাক্ত করে তোলে নগরীর আগ্রাবাদ চৌমুহনী, মুরাদপুর, বহর্দারহাটসহ বিভিন্ন এলাকার পরিবেশ। স্থানীয় লোকজন খবর দেয় সিটি কর্পোরেশনকে। দুপুর থেকে নগরীর ওইসব এলাকা থেকে ফেলে দেয়া পচা চামড়া অপসারণ শুরু করে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা।  
কোরবানীর চামড়ার এমন অস্বাভাবিক দরপতন অতীতে এই ব্যবসা সংশ্লিস্টরা আর দেখেননি জানিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করেন।   অনেকে কেঁদেও ফেলেন বড় এই লোকসানে পড়ে। তবে এমন অবস্থার মধ্যেও অস্বাভাবিক কম দামে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করার কথা জানিয়েছেন নগরীর আতুরার ডিপোর আড়তদাররা। চামড়ার বাজারে এই অরাজকতার জন্য মৌসুমি ব্যবসায়ীরা দুষছেন আড়তদারদের সিন্ডিকেটকে। আর আড়তদার দুষছেন ঢাকার ট্যানারি মালিকদের।

কোরবানীর পর সোমবার (১২আগস্ট) সারাদিন মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করেন, মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। তারা প্রতিটি চামড়া কেনেন ২০০ থেকে ৬০০ টাকা ধরে। এসব চামড়া নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করে নগরীর আগ্রাবাদ চৌমুহনী, মুরাদপুর, আতুরার ডিপো, বহার্দারহাটসহ কয়েকটি পয়েন্টে। মৌসুমী ব্যবসায়ীদৈর আশা ছিল বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে তাদের কাছ থেকে এসব চামড়া কিনে নেবে আড়তদার বা ট্যানারীগুলো। কিন্তু তাদের সেই আশায় গুড়েবালি। কিছু কিছু আড়তদার চামড়া মূল্য দিতে চান মাত্র ৫০/৬০ টাকা। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা ন্যায্য দামের আশায় চামড়া পার করেন সারারাত। মঙ্গলবার (১৩আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত ভালো দাম না পেয়ে হতাশা ঘিরে ধরে তাদের। প্রায় দুই দিনের পরিশ্রান্ত ব্যবসায়ীরা হতাশায় মুষড়ে পরেন। অনেককে কেঁদে ফেলতেও দেখা যায়। এ অবস্থায় বিকেলে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর আসতে থাকে চামড়া ফেলে মৌসুমী ব্যবসায়ীদের চোখের জলে বুক ভাসিয়ে বাড়ী ফিরে যাবার। কারণ এ ছাড়া তাদের কোন বিকল্প আর নেই। কারণ লবন ছাড়া প্রায় ২৪ ঘন্টারও বেশী সময় পার হয়ে যাওয়ায় পচন দেখা দিয়েছে সব চামড়ায়। বিকেল হতে হতে চামড়ার পঁচা গন্ধে বিষিয়ে উঠতে থাকে ওইসব এলাকার পরিবেশ।

খবর পেয়ে বিকেল থেকে চামড়া অপসারণ শুরু করে সিটি কর্পোরেশনের পরিছন্ন বিভাগ। বিকেলে তারা আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকা থেকে অপসারণ করে প্রায় ১০/১২ ট্রাক চামড়া। সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১০ পর্যন্ত নগরীর বহর্দারহাট থেকে অপসারণ করা হয় আরো ১২ ট্রাক দুর্ঘন্ধ ও পঁচা চামড়া। সংখ্যায় যা লাখ ছাড়িয়ে যাবে বলে জানান পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা।


সন্ধ্যায় বহর্দারহাট এলাকায় গিয়ে কোন চামড়া ব্যবসায়ীকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় লোকজন জানান, ঈদের দিন বিকেল থেকে এখানে চামড়া নিয়ে আসতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার পর্যন্ত রাস্তার পাশে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকায় চামড়া বাজার বসে যায়। কিন্তু ন্যায্য দাম না পেয়ে লাখ লাখ টাকার লোকসান মাথায় নিয়ে বিকালেই বাড়ী ফেরেন শত শত মৌসুমী ব্যবসায়ী।

আরো পড়ুন-  চামড়া কেনার লোক নেই!


ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন