৪ মাসে বন্ধ ৩৫ পোশাক কারখানা

৪ মাসে বন্ধ ৩৫ পোশাক কারখানা

 চট্টগ্রাম২৪ ডেস্ক
  ২০১৯-০৯-০৩: ০৩:০১ পিএম

গত চার মাসে দেশের ৩৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিবেশী প্রতিযোগী দেশের সক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় দেশের কারখানাগুলোর ক্রয় আদেশ কমে যাওয়াই এসব পোশাক কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া কারখানা বন্ধ হওয়ার পেছনে নতুন কাঠামোতে বেতন পরিশোধে বেগ পোহানো, শ্রমিক বিক্ষোভ ও শেয়ার্ড বিল্ডিং ব্যবহারের মতো কারণও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র ও কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশে পোশাক কারখানা বন্ধ হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রতি মাসেই কোনো না কোনো কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার আগে পোশাক কারখানার মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত কোম্পানি ছিল প্রায় ৫ হাজার। ওই দুর্ঘটনার পর ১২শ থেকে ১৩শ কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে বিজিএমইএ’র সদস্যভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩ হাজারের কিছু বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মে মাস থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত চার মাসে দেশে নতুন করে ৩৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে ঈদুল ফিতর থেকে ঈদুল আজহার মধ্যবর্তী আড়াই মাসেই বন্ধ হয়েছে ১৫ থেকে ২০টি কারখানা। আর ৩৫টি কারখানা বন্ধ হওয়ার ফলে চাকরি হারিয়েছেন ১৬ হাজার ৮৪৯ জন শ্রমিক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পোশাক খাত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, ‘রমজানের আগে ২০ থেকে ২৫টি কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পরে এখন পর্যন্ত আরও ১৫ থেকে ২০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। আর বর্তমানে কারখানা বন্ধের ক্ষেত্রে নতুন ধারা তৈরি হয়েছে। আগে পুরো কারখানা বন্ধ করলেও এখন দেখা যাচ্ছে ১৫ লাইনের ফ্যাক্টরির ক্ষেত্রে দুই বা তিন লাইন বন্ধ করে দিচ্ছে। এতে দুই থেকে তিনশ শ্রমিক বেকার হয়ে যাচ্ছে।’

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘তিনটি কারখানার সঙ্গে আজও (১ সেপ্টেম্বর) আমার কথা হয়েছে। তারাও নানা সমস্যায় আছে। অনেক সময় তারা চুপিচুপি ছাটাই করছে। আমাদের ঠিকমতো জানাচ্ছেও না।’

নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ের বন্ধ হয়ে যাওয়া তৈরি পোশাক কারখানাগুলো হলো— মালিবাগের লুমেন ড্রেস লিমিটেড (বেতন সমস্যা) ও লুফা ফ্যাশন লিমিটেড (বেতন সমস্যা); বাড্ডার সুমন ফ্যাশন গার্মেন্টস লি. (শ্রমিক বিক্ষোভ); শান্তিনগরের অ্যাপোচ গার্মেন্টস লিমিটেড (শেয়ার্ড বিল্ডিং); আশুলিয়ার মোভিভো অ্যাপারেলস লিমিটেড (শ্রমিক বিক্ষোভ) ও ফোর এস পার্ক স্টাইল লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ); রামপুরার জেনস ফ্যাশন লিমিটেড (শেয়ার্ড বিল্ডিং); মধ্য বাড্ডার স্টার গার্মেন্টস প্রাইভেট লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ); টঙ্গীর জারা ডেনিম লি. (শ্রমিক বিক্ষোভ), ফলটেক্স কম্পোজিট লি. (বেতন সমস্যা), এহসান সোয়েটার লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ) ও মার্ক মুড লি. (বেতন সমস্যা); বনানীর তিতাস গার্মেন্টস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (শেয়ার্ড বিল্ডিং); গাজীপুরের ওসান ট্রাউজার লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ) ও ওয়াসিফ নিটওয়্যার লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ); জিরানীর ঝুমা ফ্যাশন লি. (বেতন সমস্যা ও শ্রমিক বিক্ষোভ); বোর্ড বাজারের স্পেস গার্মেন্টস ইন্ড্রাস্ট্রি লি. (বেতন সমস্যা) এবং উত্তর বাড্ডার এভার ফ্যাশন লি. (কারখানা বন্ধ)।


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল