ফুটপাতে খাবার বিক্রি করা যাবে না: সিটি মেয়র

ফুটপাতে খাবার বিক্রি করা যাবে না: সিটি মেয়র

 নিজস্ব প্রতিবেদক
  ২০১৯-০৯-০৮: ০৭:২৫ পিএম

নগরীর ফুটপাতে কোন ধরনের খাবার বিক্রি করা যাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। মেয়র বলেন, ফুটপাতের খাবার নিরাপদ নয়। আমরা চাই, নগরে যেন বিশুদ্ধ খাবার প্রস্তুত এবং বিক্রি হয়। এ লক্ষ্যে যত রকম উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন তার জন্য চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাবে। 


তিনি রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন। রীমা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত সভায় হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও স্বাস্থ্যসম্মত নিরাপদ খাদ্য তৈরিতে হোটেল রেস্তোরার মালিকদের মানসিকতার পরিবর্তনের উপরও গুরুত্বারোপ করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির।


মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। মেয়র জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। নগরবাসী ও মেয়রের প্রত্যাশা অঙ্গাঙ্গীকভাবে জড়িত। মেয়র আরও বলেন, হোটেল রেস্তোরাকে জরিমানা করা কর্পোরেশনের মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। মুখ্য উদ্দেশ্য, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জনস্বার্থে আইন প্রণয়ন করে থাকে। এ আইন পরিবর্তনের কোনো সুযোগ সিটি কর্পোরেশনের নেই। আমরা চাই আপনারা সরকার প্রণীত আইন মেনে চলুন। যে কোন ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে সরকারি নিয়ম নীতি কিংবা আইন জানতে হবে, মানতে হবে। আইন না জানার অজুহাত কোনভাবে কাম্য নয়। এ মানসিকতা থেকে সংশ্লিষ্টদের বেরিয়ে আসতে হবে। মেয়র বলেন, প্রতিটি রেস্তোরায় একজন ম্যানেজার থাকে। এই ম্যানেজারকে সচেতন করতে হবে মালিককে। এ প্রসঙ্গে ভোক্তার নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে নগরীর হোটেল ও রেস্টুরেন্ট ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ১৯টি করণীয় আরোপ করেন সিটি মেয়র। 
এ শর্তগুলো বাস্তবায়নে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে হোটেল রেস্তোরায় সচেতনামুলক পেষ্টুন পদান করা হবে। 

সভায় হোটেল মালিকদের উদ্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার বলেন, আপনার বাসার রান্নাঘরের পরিবেশ ও হোটেলের রান্নাঘরের পরিবেশ দেখুন। সুপারভিশন করুন। পরিষ্কার রাখুন। আপনারা সচেতন হলে আমরা আপনাদেরকে ধন্যবাদ জানাব। সচেতন করার জন্যই জরিমানা করা হয়। 
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান বলেন, আমরা কেউ কারো প্রতিপক্ষ নই। দই তৈরি করতে হলে বিএসটিআই’র লাইসেন্স নিতে হবে। মোড়কের গায়ে উৎপাদন, মেয়াদ, খুচরা মূল্য থাকা বাঞ্চনীয়। বিদেশি পণ্যের মোড়কে আমদানিকারকের নাম, বাংলাদেশি টাকায় মূল্য ইত্যাদি থাকা বাধ্যবাদকতা রয়েছে। 
হোটেল রেস্তোরা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদুল হান্নান বাবু চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রদত্ত পেষ্টুনের সিদ্ধান্ত কার্যকরে একবছর সময় চান। এ সময়ের পরই তারা হোটেল রেস্তোরায় চসিকের মোবাইল কোর্ট পরিচালনার অনুরোধ জানান। 

মতবিনিময় সভায় প্রায় ৫ শত হোটেল রেস্তোরার মালিক, কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশগ্রহণ করেন। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামশুদ্দোহার সভাপতিত্বে সভায় চসিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আখতার, হোটেল রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা দিদারুল আলম, পুলিশ প্রশাসনের এডিসি কাজীমুল রশিদ, হোটেল রেস্টুরেন্ট মালিক সমিতির চেয়ারম্যান  ইলিয়াছ আহমেদ ভূইয়া, কো-চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদুল হান্নান বাবু, ক্যাবের সহ সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন, ইপসার কর্মকর্তা ওমর সাহেদ হিরু, চসিক মডার্ন খাদ্য পরীক্ষাগারের মাইক্রো বায়োলজিস্ট আশীষ কুমার দাশ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. হাসানুজ্জামান, চসিকের স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইয়াসিনুল হক চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।  

 


সাবস্ক্রাইব ইউটিউব চ্যানেল